ঢাকা, শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

হাম হলে করণীয়: শিশুকে নিরাপদ রাখতে জরুরি নির্দেশনা

ads

Measles বা হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা বর্তমানে আবারও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। টিকাদানের ঘাটতি, অপুষ্টি এবং অসচেতনতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।


হাম মূলত কাশি-হাঁচির মাধ্যমে ছড়ায় এবং বাতাসে ভাসমান ভাইরাস দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। তাই আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে সহজেই সংক্রমণ ঘটে। প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো এমএমআর টিকার দুটি ডোজ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি নিয়মিত হাত ধোয়া, কাশি-হাঁচির সময় টিস্যু ব্যবহার এবং আক্রান্ত শিশুকে ৭–১০ দিন আলাদা রাখা জরুরি।


আক্রান্ত শিশুর দ্রুত সুস্থতার জন্য সঠিক পুষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। নরম খিচুড়ি, ডাল, স্যুপ, ফলমূল, ডাবের পানি এবং পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ শরীরকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে। একইসঙ্গে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, পরিষ্কার কাপড় ব্যবহার, ঘরে আলো-বাতাস চলাচল নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।


অন্যদিকে ভাজাপোড়া, ঝাল, অতিরিক্ত মিষ্টি, ঠান্ডা খাবার ও প্রসেসড ফুড এড়িয়ে চলা উচিত। এসব খাবার শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে রোগ দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে। বিশেষ করে গরুর মাংস বা শক্ত খাবার হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে, যা দুর্বল শরীরের জন্য ক্ষতিকর।


তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। যেমন—শ্বাসকষ্ট, তিন দিনের বেশি জ্বর, খাবার না খাওয়া বা চোখ ফুলে যাওয়া। মনে রাখতে হবে, হাম প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। সময়মতো টিকা, পুষ্টিকর খাবার এবং সচেতনতা—এই তিনটি বিষয়ই শিশুকে নিরাপদ রাখতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

ads
ads
ads

Our Facebook Page